1. পাট শিল্পের সমস্যা গুলির উল্লেখ কর।
পাট শিল্পের সমস্যা গুলি হল :-
কাঁচা পাটের অভাব: এখন আর কৃষকেরা আগের মতো পাট চাষে আগ্রহী নন, কারণ এতে লাভ কম। ফলে ভালো মানের কাঁচা পাটের জোগান কমে গেছে।
বিকল্প উপকরণের ব্যবহার: আজকাল নাইলন, প্লাস্টিক, কাপড় বা কাগজের ব্যাগের মতো বিকল্প জিনিসের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় পাটজাত দ্রব্যের চাহিদা অনেক কমে গেছে।
পুরোনো যন্ত্রপাতি: অধিকাংশ পাটকলেই পুরোনো ও অকার্যকর যন্ত্র ব্যবহার করা হয়। তাই উৎপাদন কম হয়, খরচ বেশি পড়ে এবং জিনিসের মানও ভালো হয় না।
পুরোনো যন্ত্রপাতি: অধিকাংশ পাটকলেই পুরোনো ও অকার্যকর যন্ত্র ব্যবহার করা হয়। তাই উৎপাদন কম হয়, খরচ বেশি পড়ে এবং জিনিসের মানও ভালো হয় না।
বিদ্যুৎ সরবরাহের সমস্যা: বিশেষ করে হুগলি অঞ্চলের পাটকলগুলিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ অনিয়মিত হওয়ায় কাজ প্রায়ই বন্ধ হয়ে যায়।
রপ্তানি শুল্কের সমস্যা: পাটজাত দ্রব্য রপ্তানিতে শুল্ক বেশি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে যায়, ফলে বিদেশে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে।
বিদেশি প্রতিযোগিতা: বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড, নেপাল ইত্যাদি দেশের সস্তা ও ভালো মানের পাটপণ্যের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের পাটজাত দ্রব্যের তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে।
শ্রমিক-মালিক বিরোধ: ধর্মঘট, লকআউট, ছাঁটাই ইত্যাদি ঘটনার কারণে পাটকলগুলিতে প্রায়ই উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়, অনেক কল বন্ধও হয়ে যায়।
অন্যান্য সমস্যা:
নতুন বিনিয়োগের অভাব,
হুগলি নদীর নাব্যতা কমে যাওয়া,
কারখানার দূষিত পরিবেশ — সব মিলিয়ে এই শিল্পে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
সার্বিকভাবে দেখা যায়, আধুনিকীকরণের অভাব, ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং বাজারের প্রতিযোগিতা—এই তিনটি কারণেই পশ্চিমবঙ্গের পাট শিল্প আজ সংকটের মুখে পড়েছে।
2. পশ্চিমবঙ্গের খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের উন্নতির কারণ গুলি লেখ।
পশ্চিমবঙ্গ ভারতে খাদ্যপ্রক্রিয়াকরণ শিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এর উন্নতির মূলে রয়েছে একাধিক ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক সুবিধা:
১. কাঁচামালের প্রাচুর্য: রাজ্যের অনুকূল কৃষি-জলবায়ু থাকার কারণে ধান, পাট, বিভিন্ন ফল (যেমন আম, লিচু), সবজি এবং মাছের প্রচুর উৎপাদন হয়। এই কৃষিজ ও মৎস্য কাঁচামালের সহজলভ্যতা শিল্পের মূল ভিত্তি তৈরি করে।
২. উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা: পশ্চিমবঙ্গে সড়কপথ, রেলপথ, জলপথ এবং বিমানপথের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক রয়েছে। বিশেষত, কলকাতা বন্দর এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থাকায় কাঁচামাল আমদানি এবং প্রক্রিয়াজাত পণ্য দেশ-বিদেশে রপ্তানি করা খুব সহজ হয়।
৩. বিদ্যুতের সহজ জোগান: তাপবিদ্যুৎ ও জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলি এই শিল্পে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ শক্তির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখতে সাহায্য করে।
৪. জীবনযাত্রার মানের উন্নয়ন ও চাহিদা বৃদ্ধি: শিক্ষা, নগরায়ণ এবং পাশ্চাত্য সংস্কৃতির প্রভাবে রাজ্যের মানুষের জীবনযাত্রার মান দ্রুত বাড়ছে। এর ফলে কর্মব্যস্ততা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের কারণে প্রক্রিয়াজাত খাবারের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে।
৫. সরকারি সহায়তা ও উদ্যোগ: পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই শিল্পকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। ফুড পার্ক নির্মাণ, লাইসেন্স প্রদান এবং উদার বিনিয়োগ নীতি (যেমন: সহজ ঋণ ও ভর্তুকি) এই শিল্পের বিকাশে প্রধান সহায়ক।
৬. বিশাল দেশীয় বাজার: পশ্চিমবঙ্গ একটি জনবহুল রাজ্য এবং এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারের একটি অংশ। এই ক্রমবর্ধমান দেশীয় বাজারের কারণে শিল্পজাত পণ্যের বিক্রি নিশ্চিত হয় এবং বাজারের সম্প্রসারণের হারও বেশি।
৭. অন্যান্য সুবিধা:
হিমায়িত সংরক্ষণাগারের (Cold Storage) সুবিধা (যা কাঁচামালের অপচয় কমায়)।
প্যাকেজিং সামগ্রীর সহজলভ্যতা।
আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি ব্যবহারে সরকারি উৎসাহ।
এই সম্মিলিত কারণগুলির জন্যই পশ্চিমবঙ্গের খাদ্যপ্রক্রিয়াকরণ শিল্প দ্রুত উন্নতি লাভ করছে।
3. দুর্গাপুর কে ভারতের রূঢ় বলা হয় কেন ?
জার্মানির বিখ্যাত রূঢ় (Ruhr) শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে দুর্গাপুরের বেশ কিছু বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাদৃশ্য থাকার কারণে দুর্গাপুরকে ভারতের 'রূঢ়' বা 'ভারতের ইস্পাত নগরী' বলা হয়। এই সাদৃশ্যগুলি প্রধানত ভৌগোলিক অবস্থান এবং শিল্পসম্ভারের ওপর নির্ভর করে গড়ে উঠেছে:
১. নদীর অববাহিকায় অবস্থানগত সাদৃশ্য:
জার্মানির রূঢ় শিল্পাঞ্চলটি যেমন রূঢ় নদীর অববাহিকা অঞ্চলে গড়ে উঠেছে, ঠিক তেমনই ভারতের দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলটি পশ্চিমবঙ্গের প্রধান নদ দামোদরের তীরে বিকাশ লাভ করেছে। উভয় স্থানেই জলপথের সুবিধা এবং জলের পর্যাপ্ত সরবরাহ শিল্প বিকাশে সহায়তা করেছে।
২. কয়লা-নির্ভরতা ও খনিজ সম্পদ:
রূঢ় শিল্পাঞ্চল তার আশেপাশের অঞ্চলে (ওয়েস্ট ফেলিয়া) প্রাপ্ত উচ্চমানের বিটুমিনাস কয়লার ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল। ঠিক একইভাবে, দুর্গাপুরও তার নিকটবর্তী দামোদর অববাহিকা অঞ্চলের (রানিগঞ্জ, আসানসোল, ঝরিয়া) উচ্চমানের কয়লার প্রাচুর্যকে কেন্দ্র করে উন্নতি লাভ করেছে। এই কয়লা-নির্ভরতা উভয় অঞ্চলের শিল্পায়নের প্রধান চালিকাশক্তি।
৩. শিল্পকাঠামোর মিল:
জার্মানির রূঢ় শিল্পাঞ্চল মূলত লৌহ-ইস্পাত শিল্প, রাসায়নিক শিল্প এবং ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পে সমৃদ্ধ। দুর্গাপুরেও প্রধানত বিশাল লৌহ-ইস্পাত কারখানা, তার পাশাপাশি ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প, সিমেন্ট শিল্প এবং অন্যান্য রাসায়নিক শিল্পের ব্যাপক বিকাশ ঘটেছে। অর্থাৎ, ভারী শিল্পের এই কাঠামোগত মিল দুর্গাপুরকে 'রূঢ়'-এর মর্যাদা দিয়েছে।
৪. জলের প্রাচুর্য:
রূঢ় শিল্পাঞ্চলে যেমন রাইন ও রূঢ় নদীর পর্যাপ্ত জলের সরবরাহ রয়েছে, যা শিল্প এবং জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য, ঠিক তেমনি দুর্গাপুরও দামোদর নদ থেকে সারা বছর প্রচুর পরিমাণে জল পেয়ে থাকে। জলের এই নিরবচ্ছিন্ন প্রাপ্যতা ভারী শিল্পের বিকাশে সহায়ক হয়েছে।
এই সমস্ত ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক সাদৃশ্যের কারণেই দুর্গাপুর একটি বিশাল ও কয়লা-নির্ভর শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে এবং একে ভারতের প্রধান শিল্পকেন্দ্র রূঢ়ের সঙ্গে তুলনা করে 'ভারতের রূঢ়' নামে অভিহিত করা হয়।
4. পর্যটন শিল্প কি? পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন শিল্পের উন্নতির কারণ গুলি লেখ।
পর্যটন শিল্প বলতে বোঝায় সেই সুসংগঠিত ক্ষেত্রটিকে, যা পর্যটকদের আনন্দ, বিনোদন ও বিশ্রাম নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পণ্য, পরিকাঠামো, সুযোগ-সুবিধা ও পরিষেবা সরবরাহ করে। ভ্রমণ এবং অবকাশ যাপনকে কেন্দ্র করে এই শিল্পের জন্ম, যেখানে হোটেল, পরিবহন, ভ্রমণ সংস্থা, যোগাযোগ ও অন্যান্য পরিষেবাগুলো যুক্ত থাকে।
পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন শিল্পে উন্নতির কারণসমূহ
ভারতের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন শিল্পে দ্রুত উন্নতি লাভ করছে। এর প্রধান কারণগুলি হলো:
অনন্য ভৌগোলিক বৈচিত্র্য: পশ্চিমবঙ্গ হলো ভারতের সেই বিরল রাজ্যগুলির মধ্যে একটি, যেখানে একইসাথে হিমালয়ের অপার সৌন্দর্য (দার্জিলিং, কালিম্পং), সমুদ্র উপকূলের সৈকত (দিঘা, মন্দারমণি), এবং জীববৈচিত্র্যে পূর্ণ সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ অরণ্য বর্তমান। এই বৈচিত্র্য নানা ধরনের পর্যটকদের আকর্ষণ করে।
উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা: রাজ্যটিতে সড়কপথ, রেলপথ এবং জলপথের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক রয়েছে, যা পর্যটন কেন্দ্রগুলির সঙ্গে সহজে যোগাযোগ স্থাপন সম্ভব করেছে। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও বাগডোগরা বিমানবন্দর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটকদের প্রবেশাধিকার আরও সহজ করেছে।
পরিকাঠামোগত সুবিধা: পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে উন্নতমানের হোটেল ও লজ পরিষেবা গড়ে উঠেছে। বিশেষত, পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন পর্ষদ (WBTDC) পরিচালিত লজগুলি পর্যটকদের জন্য নির্ভরযোগ্য বাসস্থান নিশ্চিত করে। এছাড়া, নির্ভরযোগ্য টেলি যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকায় পর্যটকরা নিরাপদ বোধ করেন।
কম খরচে ভ্রমণ: এ রাজ্যে অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় ঘোরা, থাকা ও খাওয়ার খরচ অপেক্ষাকৃত কম হওয়ায়, এটি সাধারণ পর্যটকদের কাছে একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে।
রকমারি পর্যটন ক্ষেত্রের উপস্থিতি: পশ্চিমবঙ্গে কেবল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যগত পর্যটন নয়, ঐতিহাসিক পর্যটন (কলকাতা, মুর্শিদাবাদ), সাংস্কৃতিক পর্যটন, অরণ্য পর্যটন, চা বাগিচা পর্যটন এবং খেলাধুলাগত পর্যটন (ইডেন গার্ডেন)-এর মতো একাধিক বিকল্প থাকায় এই শিল্পের উন্নতি অব্যাহত রয়েছে।
সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ: রাজ্য সরকার পর্যটন ক্ষেত্রগুলিতে বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করায় পরিকাঠামোর বিকাশ দ্রুত হয়েছে এবং এটি শিল্পের বিকাশে গতি এনেছে।
এই বৈচিত্র্যময় সম্পদ এবং সহায়ক পরিকাঠামোর ফলেই পশ্চিমবঙ্গ ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
5.পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ুতে মৌসুমি বায়ুর প্রভাব আলোচনা করো।
পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ু মূলত উষ্ণ-আর্দ্র ক্রান্তীয় মৌসুমী প্রকৃতির, এবং এই মৌসুমী বায়ুই এখানকার জলবায়ুকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। প্রধান প্রভাবগুলি নিম্নরূপ:
বৃষ্টিপাত ও বর্ষাকালের সূচনা:
দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প নিয়ে আসে।
এই জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু যখন হিমালয় পর্বতমালায় বাধা পায়, তখন পশ্চিমবঙ্গে বৃষ্টিপাত ঘটায় এবং এর মাধ্যমেই রাজ্যে বর্ষাকালের সূচনা হয়।
বৃষ্টিপাতের বৈষম্য:
দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গে বৃষ্টিপাত হলেও, এই বৃষ্টিপাতের বণ্টন সর্বত্র সমান নয়, ফলে বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির পরিমাণে তারতম্য দেখা যায়।
খরা ও বন্যার প্রকোপ:
মৌসুমী বায়ুর আগমন ও প্রত্যাগমন প্রায়শই অনিশ্চিত থাকে।
মৌসুমী বায়ুর আগমনে দেরি বা দুর্বলতা দেখা দিলে খরা দেখা দেয়, আবার অতিরিক্ত সক্রিয়তা বা অসময়ে প্রত্যাগমনের ফলে বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ সৃষ্টি হয়।
গ্রীষ্মকালীন উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণ:
গ্রীষ্মকালে সূর্যের উত্তরমুখী অবস্থানের কারণে উষ্ণতা বাড়তে থাকে। কিন্তু দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর আগমনের ফলে এই ক্রমবর্ধমান উষ্ণতা কিছুটা হ্রাস পায়, যা গ্রীষ্মের তীব্রতা কমায়।
শীতকালীন শুষ্কতা:
শীতকালে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে যে মৌসুমী বায়ু প্রবেশ করে, তা স্থলভাগ (যেমন সাইবেরিয়া বা মধ্য এশিয়া) অতিক্রম করে আসায় তাতে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ খুব কম থাকে। এই কারণে শীতকালে আবহাওয়া শুষ্ক থাকে এবং বৃষ্টিপাত হয় না বললেই চলে।
6. পশ্চিমবঙ্গের উত্তরের পার্বত্য অঞ্চলের ভূপ্রকৃতির একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।
পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিকে অবস্থিত এই পার্বত্য অঞ্চলটি মূলত দার্জিলিং, কালিম্পং এবং জলপাইগুড়ি জেলার উত্তরাংশ জুড়ে বিস্তৃত। এটি 'দার্জিলিং হিমালয় পার্বত্য অঞ্চল' নামে পরিচিত এবং ভূপ্রকৃতির দিক থেকে এটি পূর্ব হিমালয়ের একটি অংশ।
১. সাধারণ বৈশিষ্ট্য
ভূগাঠনিক প্রকৃতি: এই অঞ্চলটি ভূতাত্ত্বিক দিক থেকে পশ্চিমবঙ্গের নবীনতম অঞ্চল। এটি প্রধানত পাললিক ও রূপান্তরিত শিলা দ্বারা গঠিত।
ঢাল ও বন্ধুরতা: এখানকার পার্বত্য ঢালগুলি সাধারণত খাড়া প্রকৃতির এবং সমগ্র ভূপ্রকৃতি অত্যন্ত বন্ধুর (অমসৃণ)। এই অঞ্চলটি সাধারণত উত্তর থেকে দক্ষিণে ঢালু হয়ে নেমে এসেছে।
নদী উপত্যকা: এই অঞ্চলে সুগভীর খাতসহ নদী উপত্যকা দেখতে পাওয়া যায়।
২. তিস্তা দ্বারা বিভাজন
এই পার্বত্য অঞ্চলের ভূপ্রকৃতিকে তিস্তা নদী তার গভীর খাতের মাধ্যমে প্রধানত দুটি স্বতন্ত্র বিভাগে বিভক্ত করেছে:
ক. তিস্তার পূর্ব দিকের পার্বত্য অঞ্চল
প্রকৃতি ও উচ্চতা: এই অংশটি তিস্তার পশ্চিম দিকের অংশের তুলনায় কম প্রসারিত এবং কম উচ্চতাযুক্ত।
উল্লেখযোগ্য পর্বতশ্রেণি ও শৃঙ্গ:
এই অঞ্চলে দেওলা ও দুরবিনদারা পর্বতশ্রেণি অবস্থিত।
এই অঞ্চলের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হলো ঋষিলা (3,130 মি), যা ভুটান-সিকিম সীমান্তে অবস্থিত।
জলপাইগুড়ির উত্তরাংশে অবস্থিত সিওলার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হলো রেনিগাঙ্গো (1,885 মি)।
রায়ডাক নদীর পশ্চিমে অবস্থিত বক্সা জয়ন্তী পাহাড় ক্ষয়প্রাপ্তির ফলে উচ্চতা হারিয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ গিরিপথ: এই অংশে অবস্থিত বক্সাদুয়ার গিরিপথটি জলপাইগুড়ি থেকে ভুটানে প্রবেশের পথ হিসেবে কাজ করে।
খ. তিস্তার পশ্চিম দিকের পার্বত্য অঞ্চল
প্রকৃতি ও উচ্চতা: এই অংশটি তিস্তার পূর্ব দিকের তুলনায় অনেক বেশি প্রসারিত এবং অপেক্ষাকৃত বেশি উচ্চতাযুক্ত।
প্রধান পর্বতশ্রেণি: এই অংশে দুটি প্রধান পর্বতশ্রেণি দেখা যায় – সিঙ্গালিলা এবং দার্জিলিং পর্বতশ্রেণি।
সিঙ্গালিলা পর্বতশ্রেণি:
এটি নেপাল ও দার্জিলিং সীমান্তে অবস্থিত।
এই অঞ্চলের সর্বোচ্চ এবং অন্যতম বিখ্যাত শৃঙ্গগুলি হলো: সান্দাকফু (3,630 মি), ফালুট (3,595 মি), সবরগ্রাম (3,543 মি) এবং টাংলু (3,063 মি)।
দার্জিলিং পর্বতশ্রেণি:
এই পর্বতশ্রেণিটি দক্ষিণের তরাই অঞ্চল থেকে খাড়াভাবে উঠে উত্তরে প্রসারিত হয়েছে।
এর অপর নাম 'ঘুম রেঞ্জ'।
এই পর্বতশ্রেণির দক্ষিণে বিখ্যাত টাইগার হিল (2,585 মি) শৃঙ্গটি অবস্থিত।

