1. ল্যাটেরাইট মৃত্তিকা ও লোহিত মৃত্তিকার মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখ । (3 নম্বর)
উত্তর:- ল্যাটেরাইট মৃত্তিকা ও লোহিত মৃত্তিকার মধ্যে পার্থক্য গুলি হল -
1. ল্যাটেরাইট মৃত্তিকা উচ্চ তাপমাত্রা ও ভারী বৃষ্টিপাত যুক্ত আর্দ্র জলবায়ুতে গঠিত হয় ।
লোহিত মৃত্তিকা কম বৃষ্টিপাত ও উষ্ণ নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ুতে দেখা যায়।
2. আয়রন ও অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইড সমৃদ্ধ ।
লোহা ও ফেরিক অক্সাইড সমৃদ্ধ।
3. কর্ণাটক, কেরালা, আসামে দেখা যায়।
ওড়িশা ও ছত্তিশগড়ের কিছু অংশে দেখা যায়।
2. নদী বর্তন কাকে বলে ? (2 নম্বর)
উত্তর:- নদী যখন সোজা পথে প্রবাহিত না হয়ে স্রোতের তীব্রতার কারণে পাড় ভাঙে ও গঠন করে বাঁক খেয়ে প্রবাহিত হয়, তখন তাকে নদী বর্তন বলে। সাধারণত সমভূমি অঞ্চলে নদীর এই ধরণের বাঁকানো প্রবাহ বেশি দেখা যায়।
3. FCC কী ? (2 নম্বর)
উত্তর:-
FCC-র পুরো কথাটি হল
False Colour Composite বা ছদ্ম রং মিশ্রণ। ভূপৃষ্ঠের বিভিন্ন বস্তু বা উপাদানের স্বাভাবিক রং যা হয়, উপগ্রহ চিত্রে সেই রঙের পরিবর্তে বিভিন্ন ব্যান্ড (band) বা রং ব্যবহার করা হয়। একেই FCC বা False Colour Composite অর্থাৎ ছদ্ম রং মিশ্রণ বলে। অবশ্য এক্ষেত্রে সারা বিশ্বে একই রকমের রং ব্যবহৃত হয়। যেমন- লাল ব্যান্ডে সবুজ, সবুজ ব্যান্ডে লাল উপগ্রহ চিত্র তৈরি করা হয়।
উদাহরণ: সবুজ অরণ্যকে উপগ্রহ চিত্রে লাল রঙে দেখানো হয়।
4. মরু অঞ্চলে বালিয়াড়ি দেখা যায় কেন ? (2 নম্বর)
উত্তর:- মরু অঞ্চলে বায়ু বাধাহীনভাবে প্রবাহিত হয়। প্রবল বেগে প্রবাহিত বায়ু বালি ও বালিযুক্ত ধূলিকণা বহন করে নিয়ে আসে।
বায়ুর প্রবাহ পথে টিলা বা শিলাখন্ড অবস্থান করলে বায়ুর গতি কমে যায়। তার ফলে বালি ও ধূলিকণা সেখানে জমা হতে শুরু করে।
ক্রমাগত বায়ু প্রবাহের মাধ্যমে বালি জমা হতে হতে বালিয়াড়ির সৃষ্টি হয়।
5. উপগ্রহ চিত্র তোলার বিভিন্ন পর্যায়ে গুলি লেখ। (3 নম্বর)
উপগ্রহ চিত্র গ্রহণের পর্যায় কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে চিত্র সংখ্যা নেওয়ার পর সেই সংখ্যাগুলোকে কম্পিউটারের সাহায্যে প্রতিবিম্ব তৈরি করা হয় । এই প্রতিবিম্ব গঠনের আবার কতগুলি পর্যায় আছে । যেমন-
প্রথমে মানচিত্র তৈরির জন্য একটি বিশেষ অঞ্চল বেছে নেওয়া হয় । যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট স্থানের মানচিত্র সংগ্রহ করা হয় ।
এরপর নির্দিষ্ট অঞ্চলটিকে পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করা হয় ।
এরপর স্যাটেলাইট ওই অঞ্চলের বস্তু ও বিষয়সমূহের তথ্য সংখ্যার আকারে সঞ্চয় ও গ্রহণ করে ।
শেষে এই তথ্যগুলি আবার বিশ্লেষণের জন্য
ground station এ পাঠানো হয়, একে বলা হয় রূপায়ণ এবং তার প্রতিলিপি নেওয়া হয় । একে বলা হয় মুদ্রণ ।
6. (শূন্যস্থান পূরণ কর) পূর্ব ভারত নেপাল ও ভুটান কে কলকাতা বন্দর __________ বলে।
উত্তর:- হিন্টারল্যান্ড
7. পৃথিবীতে আন্তর্জাতিক সিরিজের ভূবৈচিত্র সূচক মানচিত্রের সংখ্যা কয়টি ?
উত্তর:- 400 কি।
8. বিভেদন কাকে বলে ? ( 2 নম্বর)
উত্তর:- সংবেদক (Sensor)-এর সাহায্যে বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গের মাধ্যমে গৃহীত কৃত্রিম উপগ্রহ চিত্রের বিভিন্ন বস্তু, ক্ষেত্র, উপাদানের পৃথক করণের ক্ষমতাকে বিভেদন বা Resolution বলে।
9. নদীর বাঁধের উত্তর অংশের সঞ্চয় কে কি বলে ?
উত্তর - বিন্দুবার
10. কোন নদীর উপর ভাকরা নাগাল বা তৈরি হয়েছে ?
উত্তর - শতদ্রু
11. ভার্মি কম্পোস্টিং বলতে কী বোঝ? (3 নম্বর)
ভার্মি কম্পোস্টিং হলো এক প্রকার জৈব সার তৈরির পদ্ধতি, যেখানে কেঁচো-কে ব্যবহার করে কৃষিজ বর্জ্য, গোবর, এবং রান্নাঘরের পচনশীল জৈব আবর্জনা পচিয়ে অতি উন্নত মানের সার তৈরি করা হয়। এই সারকে ভার্মিকম্পোস্ট বা কেঁচো সার বলা হয়।
প্রক্রিয়া ও গুরুত্ব :-
ভার্মি কম্পোস্টিং-এর প্রধান দিকগুলি নিচে দেওয়া হলো:
কেঁচোর ভূমিকা: প্রধানত রেড উইগলার (Eisenia fetida) জাতীয় কেঁচো এই প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয়। কেঁচোগুলি জৈব বর্জ্য খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে এবং তাদের পরিপাকতন্ত্রের মধ্য দিয়ে বেরিয়ে আসা মল বা ভার্মিকাস্ট (Worm Castings) তৈরি করে।
সারের গুণগত মান: এই ভার্মিকাস্ট সাধারণ সারের চেয়ে অনেক বেশি পুষ্টিসমৃদ্ধ হয়। এতে উদ্ভিদের প্রয়োজনীয় নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম-এর (N, P, K) পরিমাণ বেশি থাকে এবং এটি মাটির জল ধারণ ক্ষমতা ও বায়ু চলাচল বাড়াতে সাহায্য করে।
পরিবেশগত গুরুত্ব: এটি কঠিন জৈব বর্জ্য ব্যবস্থাপনার একটি অত্যন্ত কার্যকর এবং পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি। এটি বর্জ্যকে পুনরায় ব্যবহারযোগ্য করে তোলে এবং মাটির স্বাস্থ্য ও উর্বরতা বৃদ্ধি করে।
12. বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় স্ক্রাবারের ভূমিকা কী? (3 নম্বর)
বর্জ্য নিয়ন্ত্রণে স্ক্রাবারের সংক্ষিপ্ত ভূমিকা:-
স্ক্রাবার হলো বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণের একটি অত্যাধুনিক যন্ত্র, যা শিল্প কারখানা থেকে নির্গত দূষিত গ্যাসকে শোধন করে। এর প্রধান কাজগুলি হলো:
১. বস্তুকণা অপসারণ: দূষিত গ্যাসকে তরল পদার্থের (যেমন জল) মধ্য দিয়ে চালনা করা হয়। এতে ভাসমান বর্জ্য বস্তুকণাগুলি ভিজে ভারী হয়ে যায় এবং থিতিয়ে পড়ে, ফলে বায়ুমণ্ডলে এর নির্গমন কমে।
২. ক্ষতিকারক গ্যাস নিয়ন্ত্রণ: সালফার ডাইঅক্সাইড (SO_2) বা নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড (NO_2) এর মতো বিষাক্ত অ্যাসিড গ্যাসগুলিকে নিষ্ক্রিয় করার জন্য স্ক্রাবারে রাসায়নিক বিকারক (যেমন স্লারি) ব্যবহার করা হয়।
৩. তাপমাত্রা কমানো: এটি নির্গত উষ্ণ বর্জ্য গ্যাসের তাপ কমিয়ে তাকে শীতল করতেও সাহায্য করে।
সংক্ষেপে, স্ক্রাবার যন্ত্রটি বায়ু থেকে বস্তুকণা ও ক্ষতিকারক গ্যাস—উভয়কেই অপসারণ করে পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
13. টি সি সি এবং এফ সি সি এর মধ্যে পার্থক্য লেখ। (3 নম্বর)
১ রং কেমন দেখায়? এটি ঠিক তেমনই দেখায় যেমন আমরা নিজেদের চোখ দিয়ে সরাসরি দেখলে দেখতে পেতাম। আকাশে মেঘ সাদা, জল নীল, এবং গাছপালা সবুজ দেখায়।
এটি বাস্তবের মতো দেখায় না। এটি এমনভাবে রং ব্যবহার করে, যাতে কিছু জিনিস (যেমন গাছপালা বা জল) আরও স্পষ্টভাবে বোঝা যায়।
২ কোন তথ্য ব্যবহার হয়? শুধুমাত্র মানুষের চোখ যা দেখতে পায় (লাল, সবুজ, নীল আলো) সেই তথ্য ব্যবহার করা হয়।
মানুষের চোখ যা দেখতে পায় না (যেমন ইনফ্রারেড বা তাপ) সেই তথ্য ব্যবহার করা হয়, এবং সেগুলিকে লাল বা সবুজ রং দিয়ে দেখানো হয়।
৩ কেন ব্যবহার করা হয়? সাধারণ ছবি বা মানচিত্র তৈরি করার জন্য, যাতে সবাই সহজে বুঝতে পারে।
গাছপালা কতটা সুস্থ বা মাটির নিচে কী আছে—এই ধরনের বিশেষ তথ্য খুঁজে বের করার জন্য ব্যবহার করা হয়।
14. কোন শহরকে ভারতের সবুজ নগর বলে ?
উত্তর - মহীশূর
15. কোন বায়ু প্রবাহে ইনডেক্স সাইকেল দেখা যায় ?
উত্তর - জেট বায়ু প্রবাহ
16. ঋণাত্মক জনসংখ্যা বৃদ্ধি কাকে বলে ?
উত্তর - কোন নির্দিষ্ট অঞ্চলে একটি নির্দিষ্ট সময়ে মৃত্যুহারের তুলনায় জন্মহার কমে গেলে কিংবা ওই স্থানের মানুষ অধিক মাত্রায় অন্যত্র গমন করলে তখন তাকে ঋণাত্মক জনসংখ্যা বৃদ্ধি বলে।
17. এ্যরোসেল কি ? (2 নম্বর)
উত্তর - এরোসেল হল একপ্রকার কোলয়েড জাতীয় পদার্থ যা কঠিন বা জলীয় পদার্থের সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা গঠিত এবং বাতাসে ভাসমান অবস্থায় থাকে। এটি প্রাকৃতিক (যেমন কুয়াশা, বাষ্প )এবং মনুষ্যসৃষ্ট (যেমন ধোয়া, তুলো) ইত্যাদি হতে পারে।
18. জনবিস্ফোরণ কি ? (2 নম্বর)
উত্তর - যখন কোন অঞ্চলে বা দেশে জনসংখ্যার বৃদ্ধি অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ঘটে এবং হঠাৎ করে জনসংখ্যার বিশাল বৃদ্ধিতে রূপান্তরিত হয় তখন তাকে জনবিস্ফোরণ বলে। ভারতে ১৯৫১ থেকে ১৯৮১ সালের মধ্যে বার্ষিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার 2.16 শতাংশ থেকে 2.47% পর্যন্ত বৃদ্ধি পায় যা দেশে জনবিস্ফোরণ ঘটায়।
19.প্রচলিত প্রতীক চিহ্ন কাকে বলে?
উত্তর -পৃথিবীর সমস্ত দেশের মানচিত্রে কিছু নির্দিষ্ট রং, চিহ্ন, সংকেত, প্রতীক, অক্ষর একই অর্থে ব্যবহার করা হয়। এই সমস্ত নির্দিষ্ট প্রতীক চিহ্নকে প্রচলিত প্রতীক চিহ্ন বলে।
20. মৌসুমি বায়ুর ওপর জেট বায়ুর প্রভাব ব্যাখ্যা করো। (3 নম্বর)
ভূপৃষ্ঠের ১০-১২ কিমি ওপরে ট্রপোস্ফিয়ারে যে প্রবল গতিবেগসম্পন্ন ও আঁকাবাঁকা পথে চলা বাতাস প্রবাহিত হয়, তাকে জেট বায়ু বলে। ভারতের মৌসুমি বায়ুর আসা ও যাওয়ার ওপর এই জেট বায়ুর প্রভাব অপরিসীম। মূলত দুই ধরণের জেট বায়ু ভারতের জলবায়ুকে নিয়ন্ত্রণ করে:
১. শীতকালে পশ্চিমা জেট বায়ুর প্রভাব:
শীতকালে 'উপক্রান্তীয় পশ্চিমা জেট বায়ু' হিমালয়ের দক্ষিণ দিক দিয়ে প্রবাহিত হয়।
শীতের তীব্রতা: এই বায়ু তার স্বাভাবিক অবস্থান থেকে যত দক্ষিণে সরে আসে, ভারতে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু (শীতকালীন শুষ্ক বাতাস) তত বেশি শক্তিশালী হয়। ফলে ভারতে শীতের তীব্রতা বেড়ে যায়।
পশ্চিমা ঝঞ্ঝা: এই বায়ুর প্রভাবেই শীতকালে ভূমধ্যসাগর থেকে আসা জলীয় বাষ্পপূর্ণ বাতাস উত্তর-পশ্চিম ভারতে প্রবেশ করে এবং ঝিরঝিরে বৃষ্টিপাত ঘটায় (যাকে পশ্চিমা ঝঞ্ঝা বলে)।
২. বর্ষাকালে পুবালি জেট বায়ুর প্রভাব:
গ্রীষ্মকালে বা বর্ষার শুরুতে ভারতের ওপর 'ক্রান্তীয় পুবালি জেট বায়ু' সক্রিয় হয়ে ওঠে।
বর্ষার আগমন: এই পুবালি জেট বায়ু শক্তিশালী হলে তা দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুকে (বর্ষার বাতাস) দ্রুত ভারতের ভূখণ্ডের দিকে টেনে আনে। ফলে সঠিক সময়ে বর্ষাকাল শুরু হয় এবং প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
খরা সৃষ্টি: কোনো বছর যদি এই পুবালি জেট বায়ু দুর্বল হয়ে পড়ে বা নিজের জায়গা থেকে উত্তরে সরে যায়, তবে মৌসুমি বায়ু ভারতে প্রবেশ করতে দেরি করে। এর ফলে বৃষ্টিপাত কমে যায় এবং দেশে খরার সৃষ্টি হয়।
21. NRSC এর সদর দপ্তর কোথায় অবস্থিত?
উত্তর - হায়দ্রাবাদ
22. মৌসুমি বায়ু কেন সমুদ্র ও স্থলবায়ুর বৃহৎ সংস্করণ?
মৌসুমি বায়ু (Monsoon) এবং সমুদ্র ও স্থলবায়ুর (Land and Sea Breeze) সৃষ্টি মূলত একই তাপগতীয় নীতিতে ঘটে। কিন্তু এদের স্থায়িত্ব ও প্রভাবিত অঞ্চলের বিস্তৃতিতে বিশাল পার্থক্য রয়েছে। এই কারণেই মৌসুমি বায়ুকে স্থলবায়ু ও সমুদ্রবায়ুর 'বৃহৎ সংস্করণ' বলা হয়।
১. মূল প্রক্রিয়ার সাদৃশ্য (Mechanism Analogy)
স্থলবায়ু ও সমুদ্রবায়ুর সৃষ্টি হয় স্থলভাগ ও জলভাগের মধ্যে ২৪ ঘণ্টার তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণে। ঠিক একই প্রক্রিয়া মৌসুমি বায়ুর ক্ষেত্রে ঘটে ৬ মাস বা এক ঋতুর তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণে।
|
প্রক্রিয়া
|
সমুদ্র ও স্থলবায়ু (২৪ ঘণ্টা)
|
মৌসুমি বায়ু (৬ মাস)
|
|
উষ্ণ অবস্থা (দিনের প্রতীক)
|
দিনের বেলায় স্থলভাগ গরম সমুদ্র থেকে সমুদ্রবায়ু আসে (আর্দ্র)।
|
গ্রীষ্মকালে স্থলভাগ গরম সমুদ্র থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু আসে (আর্দ্র)।
|
|
শীতল অবস্থা (রাত্রির প্রতীক)
|
রাত্রির বেলায় স্থলভাগ ঠান্ডা স্থলভাগ থেকে স্থলবায়ু যায় (শুষ্ক)।
|
শীতকালে স্থলভাগ ঠান্ডা স্থলভাগ থেকে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু যায় (শুষ্ক)।
|
২. কেন এটি 'বৃহৎ সংস্করণ'?
প্রভাব ও মাত্রার দিক দিয়ে মৌসুমি বায়ু স্থল ও সমুদ্র বায়ুর চেয়ে অনেক বিশাল হওয়ায় একে বৃহৎ সংস্করণ বলা হয়:
বিশাল অঞ্চলের প্রভাব: স্থলবায়ু ও সমুদ্রবায়ু কেবলমাত্র উপকূলীয় অঞ্চলের অল্প দূরত্ব পর্যন্ত প্রভাব ফেলে। অন্যদিকে, মৌসুমি বায়ু একটি বিশাল মহাদেশীয় এলাকা, যেমন—এশিয়া মহাদেশ ও ভারত মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।
দীর্ঘ স্থায়িত্বকাল: স্থলবায়ু ও সমুদ্রবায়ু মাত্র কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী হয় (দৈনিক চক্র)। কিন্তু মৌসুমি বায়ু প্রায় ৬ মাস ধরে চলে, অর্থাৎ পুরো গ্রীষ্মকাল বা পুরো শীতকাল ধরে এই বাতাস প্রবাহিত হতে থাকে (ঋতুভিত্তিক চক্র)।
বায়ুর প্রকৃতি: মৌসুমি বায়ু স্থল ও সমুদ্রবায়ুর চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী, এবং এর প্রভাবেই ভারতে বৃষ্টিপাত হয়।
এইভাবে দিনের ২৪ ঘণ্টার চক্রটি যখন বৃহৎ অর্থে ছয় মাসের ঋতুচক্রের আকার নেয়, তখনই স্থল ও সমুদ্রবায়ু মৌসুমি বায়ুতে রূপান্তরিত হয়।
23. ভারতীয় কৃষিতে সবুজ বিপ্লব বলতে কী বোঝো ? (3 নম্বর)
ভারতের কৃষিতে সবুজ বিপ্লব বলতে ১৯৬৬-৬৭ সাল নাগাদ উচ্চ ফলনশীল বীজ (HYV), রাসায়নিক সার এবং আধুনিক সেচ ব্যবস্থার ব্যবহারের মাধ্যমে গম ও ধান সহ প্রধান খাদ্যশস্যের উৎপাদনে অভূতপূর্ব বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনাকে বোঝানো হয়।
মূল উপাদান: উচ্চ ফলনশীল বীজ (যেমন: IR-8, সোনোরা-৬৪), রাসায়নিক সার ও কীটনাশক এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার।
প্রধান ফল: ভারত খাদ্যশস্য উৎপাদনে স্বনির্ভর হয় এবং আমদানির উপর নির্ভরতা কমে।
প্রধান অঞ্চল: পাঞ্জাব, হরিয়ানা এবং পশ্চিম উত্তর প্রদেশ।
এই বিপ্লব ভারতীয় কৃষিতে এক আমূল পরিবর্তন এনেছিল।
24. ভারতের দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির তিনটি সমস্যার উল্লেখ করো।
ভারতের অত্যধিক জনসংখ্যা দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির পথে এক বড় বাধা। এর ফলে সৃষ্ট প্রধান তিনটি সমস্যা হলো:
১. দারিদ্র্য বৃদ্ধি: দেশের জনসংখ্যা যে দ্রুতগতিতে বাড়ছে, সেই তুলনায় সম্পদ বা কর্মসংস্থান বাড়ছে না। সীমিত সম্পদের ওপর অতিরিক্ত মানুষের চাহিদার ফলে জোগানের অভাব ঘটছে। এর ফলে দেশে বেকারত্ব ও দারিদ্র্য ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
২. বাসস্থানের সংকট: জনসংখ্যা বাড়লেও বাসের যোগ্য জমির পরিমাণ নির্দিষ্ট। তাই অতিরিক্ত মানুষের চাপে জমির ওপর বোঝা বাড়ছে। সকলের জন্য উপযুক্ত ঘরবাড়ির ব্যবস্থা করা সম্ভব হচ্ছে না, ফলে শহরে বস্তি সমস্যা ও গ্রামে বাসস্থানের তীব্র অভাব দেখা দিচ্ছে।
৩. মাথাপিছু আয় হ্রাস: দেশের মোট জাতীয় আয় বাড়লেও, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার যদি তার চেয়ে বেশি হয়, তবে জনগণের গড় আয় বা 'মাথাপিছু আয়' কমে যায়। মাথাপিছু আয় কমে যাওয়ার ফলে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হতে পারছে না এবং দেশের সার্বিক উন্নতি ব্যাহত হচ্ছে।
25. ম্যনিওর পিট কী ? (3 নম্বর)
ম্যানিওর পিট হলো মূলত গ্রামীণ অঞ্চলে জৈব বর্জ্য ব্যবস্থাপনার একটি সহজ এবং কার্যকর পদ্ধতি।
সংজ্ঞা ও প্রয়োজনীয়তা: ভারতের গ্রামাঞ্চলে শহরাঞ্চলের মতো আধুনিক বর্জ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা প্রায় নেই বললেই চলে। এর ফলে আবর্জনা যত্রতত্র ফেলে দেওয়ায় পরিবেশ দূষণ ঘটে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য বাড়িসংলগ্ন জমিতে একটি গর্ত বা পিট তৈরি করে তাতে জৈব বর্জ্য ফেলার পদ্ধতিকেই ম্যানিওর পিট বলে। এই পদ্ধতিতে বর্জ্যকে সারে রূপান্তরিত করা হয়।
প্রক্রিয়া:
বাড়ির কাছাকাছি একটি স্থানে একটি গর্ত খনন করা হয়।
প্রতিদিন গৃহস্থালির জৈব আবর্জনা, যেমন - শাকসবজির খোসা, পচনশীল খাদ্যদ্রব্য, গোবর ইত্যাদি সেই গর্তে ফেলা হয়।
বর্জ্য ফেলার পর সেটিকে নিয়মিত মাটি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়।
গর্তটি সম্পূর্ণ ভরাট হয়ে গেলে এটিকে স্থায়ীভাবে মাটি দিয়ে ভালো করে ঢেকে দেওয়া হয়।
পাঁচ থেকে ছয় মাসের মধ্যে গর্তের ভেতরের বর্জ্য পচে উন্নত মানের জৈব সারে (কম্পোস্ট) পরিণত হয়। এই সার কৃষিকাজে ব্যবহার করা হয়।
এই পদ্ধতি একদিকে যেমন পরিবেশকে আবর্জনামুক্ত রাখতে সাহায্য করে, তেমনই অন্যদিকে মাটির উর্বরতা বাড়ানোর জন্য প্রাকৃতিক সার উৎপাদনে সহায়ক।
26. পৃথিবীর বৃহত্তম ও গভীরতম সার্ক কোনটি?
উত্তর:- আন্টার্টিকার 'ওয়ালকট' সার্ক।
27. হারভেস্টিঙ প্রোগ্রাম কোন রাজ্যে নেওয়া হয়েছে?
উত্তর - পশ্চিমবঙ্গ
28. প্লায়া হ্রদ উত্তর আফ্রিকায় কী নামে পরিচিত?
উত্তর - শটস্
29. গিনি উপকূলের স্থানীয় বায়ু কী নামে পরিচিত?
উত্তর - হারমাট্টান
ইতিহাস
1. কোন পত্রিকায় 'সত্তর বৎসর' গ্রন্থটি ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতো ?
উত্তর:- প্রবাসী
2. কত খ্রিস্টাব্দে কলকাতা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয় ?
উত্তর:- 1780 খ্রিস্টাব্দে ( মতান্তরে 1781 খ্রিস্টাব্দে)।
3. গ্রামবার্তা প্রকাশিকা পত্রিকাকে কেন ব্যতিক্রমী পত্রিকা বলা হয় ? (2 নম্বরের)
গ্রামবার্তা প্রকাশিকার ব্যতিক্রমী হওয়ার কারণ:
'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা' পত্রিকাটি ব্যতিক্রমী ছিল কারণ:
১. গ্রামীণ সমস্যা তুলে ধরা: এটি ছিল মূলত গ্রামীণ সমাজের মুখপত্র। তৎকালীন সময়ে যেখানে বেশিরভাগ বাংলা সংবাদপত্র শহর ও বিদেশের খবর প্রকাশ করত, সেখানে 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা' কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের সম্পাদনায় গ্রামীণ মানুষের ওপর জমিদার, নীলকর ও পুলিশের অত্যাচার, এবং বিচারের নামে অবিচারের বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ করত।
২. নির্ভীক ও সত্যনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন: পত্রিকাটি নির্ভীকভাবে সত্যতা যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করত। এর ফলে প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে অনেক সময় প্রশাসনকেও ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হতে হতো। সেই কারণে পত্রিকাটিকে 'গ্রামীণ সংবাদপত্রের জনক' বলা হয়।
4. জাতীয় শিক্ষা পরিষদ কিভাবে গঠিত হয় ? ( 2 নম্বরের)
জাতীয় শিক্ষা পরিষদ গঠিত হওয়ার মূল কারণ ছিল স্বদেশী আন্দোলনের সময় সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বহিষ্কৃত ছাত্রদের বিকল্প শিক্ষার ব্যবস্থা করা।
লর্ড কার্জনের বঙ্গভঙ্গ-এর প্রতিবাদে ছাত্ররা যখন আন্দোলনে অংশ নেয়, তখন ব্রিটিশ সরকার লিয়ন সার্কুলার, কার্লাইল সার্কুলার-এর মতো দমনমূলক আইন জারি করে ছাত্রদের স্কুল-কলেজ থেকে বিতাড়িত করতে থাকে। এই বহিষ্কৃত ছাত্রদের শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করতে এবং একই সাথে মাতৃভাষার মাধ্যমে জাতীয় আদর্শ, সাহিত্য, বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষা প্রদান করার লক্ষ্য নিয়ে ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে রাসবিহারী ঘোষের সম্পাদনা ও সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সভাপতিত্বে জাতীয় শিক্ষা পরিষদ গঠিত হয়।
5.অ্যান্টি সার্কুলার সোসাইটি কেন প্রতিষ্ঠিত হয় ?
অ্যান্টি-সার্কুলার সোসাইটি প্রতিষ্ঠিত হয় কার্লাইল সার্কুলারের প্রতিবাদে এবং বহিষ্কৃত ছাত্রদের বিকল্প শিক্ষার ব্যবস্থা করার উদ্দেশ্যে।
প্রতিষ্ঠার কারণ ও উদ্দেশ্য
1905 খ্রিস্টাব্দের 4 নভেম্বর ছাত্র নেতা শচীন্দ্রপ্রসাদ বসুর নেতৃত্বে কলকাতায় অ্যান্টি-সার্কুলার সোসাইটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
প্রেক্ষাপট: ব্রিটিশ সরকার বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে ছাত্রদের অংশগ্রহণ রুখতে কার্লাইল সার্কুলার জারি করে। এই সার্কুলারের ফলে আন্দোলনে যোগ দেওয়ার ‘অপরাধে’ অনেক ছাত্রকে সরকারি স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
মূল উদ্দেশ্য: এই বহিষ্কৃত ছাত্রদের জন্য বিকল্প শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করাই ছিল এই সংগঠনের প্রধান লক্ষ্য।
অন্যান্য কর্মসূচি: এছাড়া বক্তৃতা ও সংগীতের মাধ্যমে দেশবাসীর মধ্যে স্বদেশি চিন্তার প্রসার, বিদেশি পণ্যের দোকানে পিকেটিং এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বদেশি বস্ত্র সরবরাহ করাও এই সংগঠনের কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত ছিল।
6. এলাকা চাষ ও বে-এলাকা চাষ বলতে কী বোঝ?
এলাকা চাষ’ ও ‘বে-এলাকা চাষ’ এই শব্দ দুটি উনিশ শতকে নীলচাষের দুটি ভিন্ন পদ্ধতিকে বোঝাত।
১. এলাকা চাষ:
নীলকর সাহেবরা যখন সরাসরি জমিদারের কাছ থেকে জমি কিনে নিয়ে বা ভাড়া নিয়ে সেই জমিতে নিজেদের তত্ত্বাবধানে ভাড়া করা মজুর বা শ্রমিকদের (চাষি) দিয়ে নীলচাষ করাতেন, তখন তাকে 'এলাকা চাষ' বলা হত। এটি অনেকটা নীলকরদের নিজস্ব ফার্ম বা জমিতে চাষের মতো ছিল।
২. বে-এলাকা চাষ (বা রায়তি চাষ):
'এলাকা চাষ' পদ্ধতি যথেষ্ট লাভজনক না হওয়ায় নীলকররা অন্য একটি পদ্ধতি নেয়। এক্ষেত্রে নীলকররা সাধারণ চাষিদের (রায়তদের) নীলচাষের জন্য অগ্রিম টাকা বা 'দাদন' দিত। এই টাকার বিনিময়ে চাষিরা তাদের নিজেদের জমিতে এবং নিজেদের খরচে নীলচাষ করতে বাধ্য হত। নীলকরদের নিজস্ব জমির বাইরে চাষিদের জমিতে এই চাষ করানো হত বলে এর নাম হয় 'বে-এলাকা চাষ' বা 'রায়তি চাষ'।
7. দেশীয় রাজ্যগুলির ভারত ভুক্তির দলিল বলতে কী বোঝো ?
ভারতভুক্তি দলিল হলো একটি আইনি চুক্তিপত্র, যার মাধ্যমে ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর দেশীয় রাজ্যগুলি ভারতের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল।
উদ্দেশ্য: প্রায় ৫৬২টি দেশীয় রাজ্যকে ভারতীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত করা।
প্রণেতা: সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল।
চুক্তির বিষয়: রাজ্যগুলি প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষমতা ভারতের হাতে তুলে দেয়। এর বিনিময়ে শাসকরা ভারত সরকারের কাছ থেকে ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা পেতেন।
গুরুত্ব: এই চুক্তির ফলেই ভারত একটি ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
সংক্ষেপে, এটি ছিল দেশীয় রাজ্যগুলিকে ভারতীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত করার একটি ঐতিহাসিক ও আইনসম্মত পদক্ষেপ।
8. নেহরু-লিয়াকৎ চুক্তি কী এবং কেন স্বাক্ষরিত হয়?
নেহরু-লিয়াকৎ চুক্তি হলো ১৯৫০ সালের ৮ এপ্রিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকৎ আলি খানের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি ঐতিহাসিক চুক্তি। এটি দিল্লি চুক্তি নামেও পরিচিত।
উদ্দেশ্য:
- সাম্প্রদায়িক সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ: ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর বিশেষত পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমানে বাংলাদেশ) এবং পশ্চিমবঙ্গে সৃষ্ট ব্যাপক সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা অবিলম্বে বন্ধ করা।
- সংখ্যালঘু সুরক্ষা: উভয় দেশে বসবাসকারী সংখ্যালঘুদের (ভারতে মুসলিম এবং পাকিস্তানে হিন্দু) নিরাপত্তা, জীবন ও সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিত করা।
- উদ্বাস্তু সমস্যা সমাধান: দাঙ্গার কারণে বাস্তুচ্যুত হওয়া উদ্বাস্তুদের সসম্মানে নিজ নিজ বাসস্থানে প্রত্যাবর্তনের সুযোগ এবং তাদের সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের নিশ্চয়তা দেওয়া।
সংক্ষেপে, দেশভাগ-পরবর্তী সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা ও মানবিক সংকট মোকাবিলার জন্যই এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
9. রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন কেন গঠিত হয়েছিল ?
ভারতের স্বাধীনতার পর থেকেই বিভিন্ন রাজ্যে ভাষাভিত্তিক রাজ্য গঠনের দাবি অত্যন্ত জোরালো হয়ে ওঠে।
১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দে ভাষাভিত্তিক অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্য গঠিত হওয়ার পর এই দাবি আরও বেগ পায়। এই পরিস্থিতিতে, দেশের প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাস ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য এই ব্যাপক দাবিগুলির যৌক্তিকতা বিচার করা এবং সরকারকে উপযুক্ত পরামর্শ দেওয়ার প্রয়োজন ছিল।
এই উদ্দেশ্যেই প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর নির্দেশে এবং স্বরাষ্ট্র দপ্তরের উদ্যোগে বিচারপতি ফজল আলীর সভাপতিত্বে ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দে এই কমিশন গঠন করা হয়।
10. পত্তি শ্রীরামুলু কে ছিলেন?
পত্তি শ্রীরামালু ছিলেন একজন বিশিষ্ট স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং গান্ধীবাদী নেতা।তিনি ভাষার ভিত্তিতে পৃথক অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্য গঠনের দাবিতে নেতৃত্ব দেন।১৯৫২ খ্রিস্টাব্দে তিনি এই দাবির সমর্থনে ৫৮ দিন ধরে আমরণ অনশন করেন এবং অনশনরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুর পর তীব্র গণ-বিক্ষোভের মুখে ভারত সরকার দাবি মেনে নেয় এবং অন্ধ্রপ্রদেশ ছিল ভাষার ভিত্তিতে গঠিত ভারতের প্রথম রাজ্য।এই আত্মত্যাগের জন্য তাঁকে 'পৃথক অন্ধ্রপ্রদেশের উদগাতা' বলা হয়।
11. সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলকে ভারতের লৌহ মানব বলা হয় কেন?
স্বাধীন ভারতের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলকে তাঁর অদম্য চারিত্রিক দৃঢ়তা এবং বলিষ্ঠ নীতির জন্য 'ভারতের লৌহমানব' বলা হয়।
প্রধান কারণ: স্বাধীনতার পর তিনি প্রায় ৫৫০টিরও বেশি দেশীয় রাজ্যকে দৃঢ়তার সাথে (প্রয়োজনে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে) ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করে দেশের ঐক্য ও অখণ্ডতা রক্ষা করেন।
তুলনা: ঐক্যবদ্ধ জার্মানির রূপকার বিসমার্কের সঙ্গে তুলনা করে তাঁর এই ঐতিহাসিক সাফল্যের জন্য তাঁকে এই অভিধায় ভূষিত করা হয়েছে।
তিনিই হলেন ঐক্যবদ্ধ ভারতের রূপকার।
12. মোনালিসা চিত্রটি কীভাবে এখনও বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ চিত্রের স্থান দখল করে রেখেছে? ( 2 নম্বর)
মোনালিসা এখনও বিশ্বের শ্রেষ্ঠ চিত্রগুলোর একটি বিবেচিত হয় কারণ—
1. দা ভিঞ্চির অনন্য শিল্পকৌশল (স্ফুমাতো প্রযুক্তি ও নিখুঁত আলো–ছায়ার ব্যবহার)।
2. রহস্যময় হাসি, যা দর্শককে বিভ্রান্ত ও আকৃষ্ট করে।
3. ১৯১১ সালের চুরির ঘটনা, যা একে বিশ্বজোড়া প্রচার ও খ্যাতি দেয়।
4. সাংস্কৃতিক জনপ্রিয়তা—পোস্টার, কার্টুন, মিম, বিজ্ঞাপনে বারবার ব্যবহার।
5. রহস্য ও বিতর্ক—মডেল কে, হাসির মানে কী ইত্যাদি।
এই সব মিলেই মোনালিসা আজও পৃথিবীর সর্বাধিক বিখ্যাত ও শ্রেষ্ঠ চিত্রের মর্যাদা ধরে রেখেছে।
13. কুলিন কুল সর্বস্ব নাটকটি কার লেখা ?
উত্তর - রামনারায়ণ তর্করত্ন ।
14. কলকাতার এলবার্ট হলের বর্তমান নাম কি ?
উত্তর - কফি হাউস।
15. ইম্পেরিয়াল ফরেস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট কোথায় প্রতিষ্ঠিত হয় ?
উত্তর - দেরাদুন
16. সোমপ্রকাশ কে বাংলার প্রথম রাজনৈতিক সংবাদপত্র বলার কারণ কি ?
নির্ভীক সমালোচনা: এটিই প্রথম বাংলা পত্রিকা যা সরাসরি ব্রিটিশ শাসনের কুফল এবং সরকারি দমন-পীড়নের কড়া সমালোচনা করার সাহস দেখিয়েছিল।
কৃষকদের পক্ষে লড়াই: নীলকর সাহেবদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে কৃষকদের সংগঠিত করতে এবং তাদের অধিকার আদায়ে এই পত্রিকা জোরালো ভূমিকা নেয়।
জনমত গঠন: বিধবা বিবাহ বা নারী শিক্ষার মতো সামাজিক বিষয়ের পাশাপাশি শিক্ষিত বাঙালির রাজনৈতিক চিন্তাধারাকে এই পত্রিকা একটি নির্দিষ্ট রূপ দিয়েছিল।
সাহসী সাংবাদিকতা: রাজনৈতিক সত্য প্রকাশের কারণে ব্রিটিশ সরকারের রোষানলে পড়লেও এই পত্রিকা তার প্রতিবাদী অবস্থান থেকে সরেনি।
মূলত, সংবাদ পরিবেশনের চেয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও প্রতিবাদের ওপর বেশি জোর দেওয়ার কারণেই একে প্রথম রাজনৈতিক সংবাদপত্র বলা হয়।
17. আধুনিক ইতিহাস চর্চায় সাধারণ মানুষের কর্মধারার উপর বেশি জোর দেওয়া হয় কেন ?
আধুনিক ইতিহাসচর্চায় রাজা-মহারাজাদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবন ও কর্মধারার ওপর বেশি জোর দেওয়া হয় মূলত তিনটি কারণে:
ইতিহাসের সামগ্রিকতা: ইতিহাস মানে শুধু যুদ্ধ বা রাজনৈতিক জয় নয়; সমাজের প্রকৃত রূপ জানতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি ও শ্রমের কথা জানা অপরিহার্য। কারণ, সাধারণ মানুষের শ্রমেই দেশের অর্থনীতি ও সমাজ ব্যবস্থা গড়ে ওঠে।
নিম্নবর্গের ইতিহাস (Subaltern Studies): আধুনিক ঐতিহাসিকরা মনে করেন, ইতিহাসের গতিপথ নির্ধারণে কৃষক, শ্রমিক এবং প্রান্তিক মানুষের বড় ভূমিকা রয়েছে। তাই তাঁদের বাদ দিয়ে দেশের প্রকৃত ইতিহাস রচনা করা সম্ভব নয়।
গণতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি: বর্তমান সময়ে গণতান্ত্রিক চিন্তাধারার প্রসারের ফলে সাধারণ মানুষের অধিকার ও গণআন্দোলন অনেক বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।
18. আলেকজান্ডার ডাফ স্মরণীয় কেন ?
স্কটিশ মিশনারি আলেকজান্ডার ডাফ ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষা ও ইংরেজি ভাষা প্রসারের ক্ষেত্রে একজন অগ্রগণ্য ব্যক্তিত্ব। তাঁর স্মরণীয় হওয়ার প্রধান কারণগুলি হলো:
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন: ১৮৩০ খ্রিস্টাব্দে তিনি কলকাতায় 'জেনারেল অ্যাসেম্বলিজ ইনস্টিটিউশন' প্রতিষ্ঠা করেন, যা বর্তমানে বিখ্যাত 'স্কটিশ চার্চ কলেজ' নামে পরিচিত।
- ইংরেজি শিক্ষার প্রসার: তিনি বিশ্বাস করতেন ইংরেজি শিক্ষার মাধ্যমেই ভারতের আধুনিকীকরণ সম্ভব। তাই তিনি মেকলের 'চুইয়ে পড়া নীতি' (Filtration Theory) সমর্থন করেন এবং অসংখ্য ইংরেজি স্কুল স্থাপনে উদ্যোগী হন।
- সমাজ ও ধর্ম সংস্কার: খ্রিস্টধর্ম প্রচারের পাশাপাশি তিনি তৎকালীন বাংলার কুসংস্কার দূর করতে এবং যুক্তিবাদী শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
19. গোরা উপন্যাসের মধ্যে দিয়ে কোন দ্বন্দ্বের প্রতিফলন লক্ষ্য করা যায় ?
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'গোরা' (১৯১০) উপন্যাসটি কেবল একটি কাহিনি নয়, এটি তৎকালীন সমাজ ও রাজনীতির এক জীবন্ত দলিল। এই উপন্যাসে মূলত দুটি প্রধান দ্বন্দ্ব লক্ষ্য করা যায়:
গোঁড়া রক্ষণশীলতা বনাম উদার জাতীয়তাবাদ: উপন্যাসের প্রধান চরিত্র গোরার মাধ্যমে একদিকে উগ্র হিন্দুত্ববাদ ও কঠোর জাতিভেদ প্রথার আদর্শ দেখানো হয়েছে, অন্যদিকে গোরার প্রকৃত পরিচয় (আইরিশ বংশোদ্ভূত) প্রকাশের মাধ্যমে সংকীর্ণ ধর্মীয় গণ্ডি ভেঙে এক উদার, সর্বভারতীয় ও অসাম্প্রদায়িক জাতীয়তাবাদের আদর্শ তুলে ধরা হয়েছে।
প্রাচ্য বনাম পাশ্চাত্য আদর্শ: উপন্যাসে একদিকে ভারতীয় সনাতন ঐতিহ্য ও বিশ্বাসের লড়াই এবং অন্যদিকে পাশ্চাত্য উদারপন্থী ও যুক্তিনির্ভর ব্রাহ্ম সমাজের আদর্শের মধ্যে এক তীব্র দ্বন্দ্ব ও সমন্বয়ের চেষ্টা দেখা যায়।
পরিশেষে, রবীন্দ্রনাথ এই দ্বন্দ্বের অবসান ঘটিয়েছেন গোরার 'ভারতবর্ষীয়' হয়ে ওঠার মাধ্যমে, যেখানে ধর্ম বা জাতির চেয়ে মানুষ ও দেশ বড়।
20. মুদ্রণের ইতিহাসে 1800 খ্রিস্টাব্দ গুরুত্বপূর্ণ কেন?
বাংলার তথা ভারতের মুদ্রণ ও শিক্ষা বিস্তারের ইতিহাসে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর প্রধান কারণগুলি হলো:
- শ্রীরামপুর মিশন প্রেস প্রতিষ্ঠা: ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে উইলিয়াম কেরি, মার্শম্যান ও ওয়ার্ড (শ্রীরামপুর ত্রয়ী) হুগলির শ্রীরামপুরে 'ব্যাপিষ্ট মিশন প্রেস' প্রতিষ্ঠা করেন। এটি ছিল তৎকালীন এশিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুদ্রণ কেন্দ্র, যা বাংলায় বই ছাপানোর কাজে জোয়ার আনে।
- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ ও পাঠ্যপুস্তক: একই বছর (১৮০০ খ্রি.) লর্ড ওয়েলেসলি কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ স্থাপন করেন। এই কলেজের সিভিলিয়ান ছাত্রদের পাঠ্যপুস্তকের অভাব দূর করতে শ্রীরামপুর প্রেস থেকে প্রচুর বাংলা বই ছাপা হতে থাকে।
- শিক্ষা ও মুদ্রণের সমন্বয়: ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের প্রয়োজনে শ্রীরামপুর মিশন থেকে উইলিয়াম কেরি ও রামরাম বসুর মতো পণ্ডিতদের লেখা বইগুলি মুদ্রিত হতে থাকে। এর ফলে বাংলা গদ্য সাহিত্য ও মুদ্রণ শিল্পের দ্রুত বিকাশ ঘটে।
21. রাজেন্দ্রনাথ মুখার্জীকে স্মরণ করার কারণ উল্লেখ কর।
ভারতবর্ষের শিল্প ও কারিগরি শিক্ষার ইতিহাসে বিশিষ্ট বাঙালি শিল্পপতি স্যার রাজেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় (আর. এন. মুখার্জি) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর স্মরণীয় হওয়ার প্রধান কারণগুলি হলো:
শিল্প স্থাপনা ও নির্মাণ: তিনি 'মার্টিন বার্ন' কোম্পানির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। তাঁর তত্ত্বাবধানে কলকাতার আইকনিক স্থাপনা ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, রাইটার্স বিল্ডিংস, এবং হাওড়া ব্রিজ (পুরানোটি)-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত্য নির্মিত হয়।
ভারী শিল্পের বিকাশ: তিনি ভারতে লৌহ ও ইস্পাত শিল্পের প্রসারে বড় ভূমিকা নেন। তিনি 'ইন্ডিয়ান আয়রন অ্যান্ড স্টিল কোম্পানি' (IISCO) প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ছিলেন, যা ভারতের শিল্পায়নে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছিল।
বাঙালি উদ্যোক্তা হিসেবে আদর্শ: ব্রিটিশ আমলেও একজন বাঙালি হয়ে তিনি সাহসিকতার সাথে বড় বড় কলকারখানা ও রেলপথ নির্মাণ করেছিলেন। তাঁর এই সাফল্য তৎকালীন বাঙালি যুবকদের ব্যবসা ও কারিগরি বিদ্যায় আগ্রহী হতে অনুপ্রাণিত করেছিল।