ইতিহাস (সপ্তম শ্রেণী) বড় প্রশ্ন

 


1. মুঘল যুগের শিল্প কলার বিবরণ দাও।

মুঘল যুগে ভারতীয়, পারসিক ও মধ্য এশীয় শিল্পরীতির এক সুন্দর সমন্বয় ঘটেছিল। মুঘল সম্রাটরা এই শিল্পের বড় পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।

১. মুঘল চিত্রকলা (অণুচিত্র)

এটি ছিল মূলত অণুচিত্র বা মিনিয়েচার।

বৈশিষ্ট্য:পারস্যের উজ্জ্বল রঙ ও ভারতের বাস্তবতার মিশ্রণ দেখা যায়। মূলত রাজদরবার, শিকার, যুদ্ধ ও রাজকীয় প্রতিকৃতি (Portrait) আঁকা হতো। পুঁথিচিত্র আঁকার চল ছিল (যেমন: হামজানামা)।

স্বর্ণযুগ ও শিল্পী: সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে চিত্রকলা স্বর্ণযুগে পৌঁছায়। বিখ্যাত শিল্পী ছিলেন মনসুর (পশুপাখি আঁকতেন) ও আবুল হাসান।

২. মুঘল স্থাপত্যকলা

মুঘল স্থাপত্যশিল্পেও বিশেষ উন্নতি ঘটে।

বৈশিষ্ট্য:প্রথম দিকে লাল বেলেপাথর এবং পরে শ্বেতপাথর বা মার্বেল ব্যবহার করা হতো। ভবনকে কেন্দ্র করে বাগান তৈরির চারবাগ পদ্ধতি ব্যবহার করা হতো। পিয়েত্রাদুরা (শ্বেতপাথরে রঙিন পাথর বসিয়ে নকশা) পদ্ধতি দেখা যায়।

প্রধান স্থাপত্য: আকবর: ফতেপুর সিক্রি, আগ্রা ফোর্ট, বুলন্দ দরওয়াজা।

শাহজাহান: তাঁর সময়কে স্থাপত্যের স্বর্ণযুগ বলা হয়। তিনি বিখ্যাত তাজমহল, দিল্লির লালকেল্লা এবং মতি মসজিদ নির্মাণ করেন।

মুঘল শিল্পকলা ছিল রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতার ফসল, যা ভারতীয় শিল্প সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করেছিল।

2. সুলতানি যুগের শিল্পকলার বিবরণ দাও।

দিল্লি সুলতানি যুগে শিল্পকলার মূল ভিত্তি ছিল স্থাপত্যশিল্প। এই সময় ভারতীয় ও ইসলামী রীতির সংমিশ্রণে ইন্দো-ইসলামিক স্থাপত্যের জন্ম হয়।

১. স্থাপত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য

উপাদান: লাল বেলেপাথর ব্যবহৃত হতো।

বিশেষত্ব: ইসলামী স্থাপত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি ছিল:

খিলান (Arch): দরজায় অর্ধ-গোলাকার খিলানের ব্যবহার।

গম্বুজ (Dome): অর্ধ-গোলাকার ছাদ।

মিনার (Minaret): লম্বা স্তম্ভ।

সাজসজ্জা: স্থাপত্যে মানুষ বা জীবজন্তুর মূর্তি না বসিয়ে তার বদলে জ্যামিতিক নকশা এবং আরবি ক্যালিগ্রাফি (লিপি) ব্যবহার করা হতো।

২. উল্লেখযোগ্য স্থাপত্য

দাস বংশ: কুতুব মিনার ও কুয়াত-উল-ইসলাম মসজিদ (নির্মাতা: কুতুবউদ্দিন আইবক ও ইলতুৎমিশ)।

খিলজি বংশ: আলাই দরওয়াজা (নির্মাতা: আলাউদ্দিন খলজি)। এই স্থাপত্যে প্রথম সত্যিকারের খিলান দেখা যায়।

লোদি বংশ: সমাধিগুলিতে প্রথম দ্বিতল গম্বুজ (Double Dome) ব্যবহার করা শুরু হয়।

৩. অন্যান্য শিল্প

সংগীত: এই যুগে আমির খসরু সংগীতের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখেন।

এই যুগের শিল্পকলা ছিল ভারতে দুটি ভিন্ন সংস্কৃতির 

মিলনের প্রতীক।

3. মুঘল যুগের স্থাপত্য রীতি বিবরণ দাও।

মুঘল স্থাপত্য রীতি ছিল ইন্দো-ইসলামিক রীতির এক চমৎকার সংমিশ্রণ, যেখানে ভারতীয়, পারস্য (ইরানীয়), এবং মধ্য এশীয় স্থাপত্যশৈলীর প্রভাব দেখা যায়। এটি মুঘল সম্রাটদের পৃষ্ঠপোষকতায় ১৫২৬ থেকে ১৮৫৭ সাল পর্যন্ত বিকাশ লাভ করে। 

🕌 মুঘল স্থাপত্য রীতির বিবরণ

মুঘল স্থাপত্যে প্রধানত লাল বেলেপাথর এবং শ্বেতপাথর (মার্বেল) ব্যবহার করা হতো। এই স্থাপত্যশৈলীর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি নিচে আলোচনা করা হলো:

১. প্রধান বৈশিষ্ট্য ও উপাদান

বিশালতা (Magnitude): মুঘল স্থাপত্যগুলো সাধারণত খুব বিশাল ও জাঁকজমকপূর্ণ হতো। এর মধ্যে বাগান, প্রবেশদ্বার, মসজিদ এবং প্রাসাদ সবই ছিল।

ডোম বা গম্বুজ (Dome): স্থাপত্যের একটি প্রধান আকর্ষণ ছিল পেঁয়াজের আকারের গম্বুজ। এগুলি সাধারণত মধ্য এশীয় স্থাপত্য থেকে অনুপ্রাণিত ছিল। 

মিনার (Minarets): স্থাপত্যের চার কোণে উঁচু ও সরু মিনার বা টাওয়ার নির্মাণ করা হতো। এগুলি কাঠামোটিকে ভারসাম্য দিত।

২. সাজসজ্জা এবং অলঙ্করণ

পিয়েত্রা দ্যুরা (Pietra Dura): এটি ছিল মুঘল স্থাপত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অলঙ্করণ পদ্ধতি। এর অর্থ হলো, মার্বেল পাথরের ওপর মূল্যবান বা অর্ধ-মূল্যবান পাথর বসিয়ে ফুল, লতাপাতা বা জ্যামিতিক নকশা তৈরি করা। তাজমহল এর সবচেয়ে ভালো উদাহরণ।

ক্যালিগ্রাফি (Calligraphy): আরবি বা ফারসি ভাষায় ধর্মীয় লিপি ও কবিতা সুন্দর করে পাথর বা মার্বেলে খোদাই করা হতো।

জ্যামিতিক ও পুষ্পশোভিত নকশা: স্থাপত্যের দেওয়াল এবং মেঝেতে প্রচুর পরিমাণে ফুল, লতাপাতা এবং জ্যামিতিক আকারের নকশা খোদাই করা হতো।

৩. উদ্যান বা বাগান

চারবাগ পদ্ধতি (Charbagh Style): মুঘল স্থাপত্যে প্রায়শই সমাধি বা প্রধান ভবনের আশেপাশে চারবাগ বা চারটি ভাগে বিভক্ত বাগান তৈরি করা হতো। বাগানগুলি কৃত্রিম খাল বা জলের ধারা দ্বারা বিভক্ত থাকতো। এটি পারস্যের বাগানের অনুকরণে করা হতো।

৪. উল্লেখযোগ্য স্থাপত্য 🏰

সম্রাট হুমায়ুন: হুমায়ুনের সমাধিসৌধ (প্রথম চারবাগ পদ্ধতির ব্যবহার)।

সম্রাট আকবর: ফতেহপুর সিক্রি, আগ্রা ফোর্ট (লাল বেলেপাথরের ব্যবহার)।

সম্রাট শাহজাহান (স্থাপত্যের স্বর্ণযুগ): তাজমহল, লাল কেল্লা (দিল্লি), জাম্মা মসজিদ (শ্বেতপাথর ও পিয়েত্রা দ্যুরার ব্যাপক ব্যবহার)।

উপসংহার: মুঘল স্থাপত্য রীতি কেবল বড় বড় ইমারত নির্মাণেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এটি ছিল মধ্য এশিয়া ও ভারতের শিল্পকলার এক সুন্দর মিলন, যা মুঘল সাম্রাজ্যের ঐশ্বর্য ও কারিগরি দক্ষতা প্রমাণ করে।

4. সুলতানি যুগের স্থাপত্য রীতির বিবরণ দাও।

সুলতানি যুগের স্থাপত্যকে ইন্দো-ইসলামীয় স্থাপত্য বলা হয়, যা ছিল ভারতীয় (হিন্দু) এবং ইসলামিক (পারসিক ও তুর্কি) রীতির এক অপূর্ব মিশ্রণ। এটি ছিল এক সমন্বয়ী শিল্পধারা।

প্রধান বৈশিষ্ট্য:

খিলান ও গম্বুজ: ইসলামিক প্রভাবে স্থাপত্যে খিলান (Arch) এবং গম্বুজ (Dome)-এর ব্যবহার শুরু হয়। এর ফলে প্রশস্ত হলঘর নির্মাণ করা সম্ভব হয়।

নতুন নির্মাণ কৌশল: পাথর গাঁথার জন্য চুন, বালি ও জলের মিশ্রণে তৈরি মজবুত মসলা (আস্তর) ব্যবহার শুরু হয়, যা নির্মাণকে স্থায়ী করে।

সাজসজ্জা: ইসলামিক নিয়মানুসারে জীবন্ত প্রাণীর ছবি বাদ দিয়ে, অলঙ্করণে প্রধানত জ্যামিতিক নকশা, লতাপাতার কাজ এবং কোরানের বাণী ব্যবহার করা হতো। তবে এর সাথে পদ্ম ও স্বস্তিকা-র মতো ভারতীয় প্রতীকও যুক্ত হয়।

এই রীতির শ্রেষ্ঠ উদাহরণ হলো দিল্লির কুতুব মিনার ও কুয়াত-উল-ইসলাম মসজিদ। এই মিশ্রণ ভারতে এক নতুন স্থাপত্যের জন্ম দিয়ে

ছিল।

5. ভক্তিবাদী আন্দোলনের উত্থানের কারণ কী?

ভারতে ভক্তিবাদ উত্থানের মূল কারণগুলি ছিল:

প্রচলিত ধর্মের জটিলতা: পুরাতন ব্রাহ্মণ্য, বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মে জটিল আচার-রীতি ও ব্যয়বহুল আচারের ওপর বেশি জোর দেওয়া হত। এতে সাধারণ মানুষের আবেগ বা সরল ভক্তির কোনো স্থান ছিল না।

দক্ষিণ ভারতের প্রভাব: খ্রিস্টীয় ৭ম শতকের দিকে অলভার ও নয়নার সাধকদের হাত ধরে দক্ষিণ ভারতে ভক্তিবাদ জনপ্রিয়তা লাভ করে। এই ধারাই পরে উত্তর ভারতে ছড়িয়ে পড়ে।

ব্রাহ্মণ্য প্রভাব হ্রাস: তুর্কি আক্রমণের ফলে উত্তর ভারতের রাজপুত রাজাদের পরাজয় ঘটলে, তাদের পৃষ্ঠপোষক ব্রাহ্মণ পুরোহিতদের সামাজিক প্রভাব কমতে থাকে, ফলে নতুন ধর্মভাবনার পথ প্রশস্ত হয়।

সাধকদের আবির্ভাব: খ্রিস্টীয় ১৩শ থেকে ১৫শ শতকে কবীর, গুরু নানক, রামানন্দ, চৈতন্যদেব প্রমুখ ভক্তিবাদী সাধক-সাধিকারা সরল ভাষায় (আঞ্চলিক ভাষা) এবং জাতিভেদহীন সমাজের বার্তা প্রচার করেন, যা সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুত পৌঁছায়।

মূলত, সরল পথে ঈশ্বরের প্রতি ভালোবাসা (ভক্তি) প্রতিষ্ঠা করাই ছিল এই উত্থানের মূল ভিত্তি।

6. দীন-ই-ইলাহি একটি সংক্ষিপ্ত টীকা ।

মোগল সম্রাট আকবর ১৫৮২ খ্রিস্টাব্দে একটি নতুন ধর্মীয় মতবাদ বা পথ চালু করেন, যার নাম ছিল দীন-ই-ইলাহি বা 'স্বর্গীয় বিশ্বাস'। আকবর চেয়েছিলেন ভারতের বহু-ধর্মীয় সমাজের জন্য একটি সাধারণ নৈতিক ভিত্তি তৈরি করতে, যা সবাইকে এক সূত্রে বাঁধবে।

প্রধান বৈশিষ্ট্য

দীন-ই-ইলাহি কোনো প্রথাগত ধর্ম ছিল না, এটি ছিল মূলত একটি আচারবিধি বা জীবনযাত্রার নিয়মাবলী। এর মূল ভিত্তি ছিল:

এক ঈশ্বরে বিশ্বাস: এই মতবাদের প্রধান নীতি ছিল একজন ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস রাখা।

সম্রাটের প্রতি আনুগত্য: সম্রাট আকবরকে পৃথিবীতে ঈশ্বরের প্রতিনিধি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হতো।

আচার-অনুষ্ঠান বর্জন: এই পথে কোনো পবিত্র ধর্মগ্রন্থ, নির্দিষ্ট পুরোহিত শ্রেণী, উপাসনালয় বা জটিল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের প্রয়োজন ছিল না।

প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য

আকবরের এই মতবাদ প্রবর্তনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল:

ঐক্য ও শান্তি: হিন্দু, মুসলিম এবং অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে ধর্মীয় ভেদাভেদ দূর করে বিশ্বজনীন ভ্রাতৃত্ববোধ ('সুলহ-ই-কুল') এবং জাতীয় সংহতি প্রতিষ্ঠা করা।

নৈতিক আদর্শ: সকলকে একটি সহজ নৈতিক আদর্শের পথে পরিচালিত করা, যা সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।

দীন-ই-ইলাহি ছিল আকবরের ধর্মীয় উদারতা এবং সহনশীল নীতির এক গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। তবে এটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেনি এবং শুধুমাত্র দরবারের কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তির মধ্যেই এটি সীমাবদ্ধ ছিল।

7. গৌড়ের শাসক হিসেবে শশাঙ্কের কৃতিত্ব আলোচনা কর।

গৌড়ের শাসক শশাঙ্ক ছিলেন বাংলার ইতিহাসে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। তিনিই প্রথম বাংলার ছোট ছোট অঞ্চলগুলিকে একত্রিত করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর কৃতিত্বের জন্যই বাংলা প্রথম একটি একক শক্তিশালী রাজনৈতিক মর্যাদা লাভ করে।

স্বাধীন রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা

শশাঙ্ক ছিলেন বাংলার প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম রাজা। এর আগে বাংলা গুপ্ত বা অন্যান্য রাজাদের অধীনে ছিল।

তিনি বিভিন্ন ছোট ছোট অঞ্চলকে একত্রিত করে গৌড় রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন এবং পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে বাংলাকে মুক্ত করেন।

সাম্রাজ্যের বিস্তার

তিনি শুধু গৌড়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেননি, তাঁর সামরিক শক্তির সাহায্যে সাম্রাজ্যের সীমানা বাংলার বাইরেও ছড়িয়ে দেন।

তাঁর রাজ্য মগধ (বিহার), উড়িষ্যার উত্তরাঞ্চল এবং দণ্ডভুক্তি (মেদিনীপুর) পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল।

রাজধানী ও মুদ্রা

তিনি কর্ণসুবর্ণকে (যা বর্তমানে মুর্শিদাবাদ জেলায় অবস্থিত) তাঁর রাজ্যের রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলেন।

তাঁর শাসনামলে বাণিজ্যের সুবিধার জন্য সোনার মুদ্রা চালু হয়েছিল, যা তাঁর অর্থনৈতিক দূরদর্শিতার প্রমাণ দেয়।

বঙ্গাব্দের সূচনা (মতভেদ)

অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন, বাংলা বর্ষপঞ্জি বা বঙ্গাব্দ গণনা শশাঙ্কের সিংহাসনে আরোহণের দিন থেকেই শুরু হয়েছিল। যদি এটি সত্যি হয়, তবে এটি তাঁর এক যুগান্তকারী কৃতিত্ব।

ধর্মীয় পরিচয়

শশাঙ্ক ছিলেন শৈব ধর্মের অনুসারী (শিবের উপাসক), তাই তাঁকে 'মহাশৈব' বলা হতো। তাঁর মুদ্রায় শিবের মূর্তি খোদাই করা পাওয়া যায়।

 সামরিক ক্ষমতা, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং প্রশাসনিক দক্ষতার কারণে শশাঙ্ক বাংলার ইতিহাসে 'প্রথম স্বাধীন নরপতি' হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।

8. ভক্তিবাদী আন্দোলনে গুরুনানক ও কবীরের ভূমিকা আলোচনা কর।

ভক্তি আন্দোলন ছিল ঈশ্বরের প্রতি প্রেম ও ভক্তি প্রকাশের এক সহজ পথ। এই আন্দোলনের দুই প্রধান সাধক হলেন কবীর দাস এবং গুরু নানক।

🔹 কবীর দাস

সমন্বয়ের প্রতীক: তিনি হিন্দুধর্ম ও ইসলামের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, ঈশ্বর এক এবং তাঁকে পাওয়ার পথও এক।

শিক্ষা: তিনি মূর্তি পূজা এবং বাহ্যিক আচার-অনুষ্ঠান প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি ভক্তি এবং সুফি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন।

সাহিত্য: তাঁর কবিতার সংকলন হল 'বীজক'। তিনি সরল ভাষায় দোঁহা ও সখী রচনা করে সাধারণ মানুষের কাছে তাঁর বার্তা পৌঁছে দেন।

🔹 গুরু নানক

শিখ ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা: তিনি ছিলেন শিখ ধর্মের জনক।

ঈশ্বরের ধারণা ও সাম্য: কবীরের মতোই তিনিও নিরাকার ও এক ঈশ্বরের ধারণায় বিশ্বাসী ছিলেন। তিনি সমাজের জাতপাতের ভেদাভেদ দূর করে মানুষের মধ্যে সাম্য ও ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন।

বার্তা: তিনি প্রচার করেন যে সকল ধর্মের মূল বার্তা এক, অর্থাৎ "ন হিন্দু, ন মুসলমান।"

💡 মূল অবদান

কবীর ও গুরু নানক উভয়েই সরল, স্থানীয় ভাষায় (হিন্দি, পাঞ্জাবি ইত্যাদি) তাঁদের শিক্ষা প্রচার করেছিলেন। এর ফলে ভক্তি আন্দোলন খুব সহজে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল এবং দেশের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে

 পড়েছিল।

Post a Comment

Previous Post Next Post