মাধ্যমিক ইতিহাস (৮ নম্বর)

 1. বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময় নারীদের অংশগ্রহণের পরিচয় দাও।

১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে বাংলার নারীসমাজের অংশগ্রহণ ছিল এক যুগান্তকারী ঘটনা। ঘরের অন্দরমহল থেকে বেরিয়ে এসে তাঁরা যেভাবে এই রাজনৈতিক সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন, তা ছিল অভূতপূর্ব। নিচে তোমার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি সহজ ভাষায় গুছিয়ে লিখে দেওয়া হলো:

​বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে নারীসমাজের অংশগ্রহণ

​নারীরা এই আন্দোলনে মূলত চারটি প্রধান ধারায় অংশগ্রহণ করেছিলেন:

  • বিদেশি পণ্য বর্জন ও বয়কট: নারীরা অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বিদেশি পণ্য বর্জনের ডাক দেন। তাঁরা বিদেশি কাপড়, প্রসাধন সামগ্রী, এমনকি বিদেশি নুন ও চিনি পর্যন্ত ত্যাগ করেন। অনেক ক্ষেত্রে বাড়ির পুরুষদের চেয়ে নারীরাই বিদেশি পণ্য বর্জনে বেশি কঠোর ভূমিকা পালন করেছিলেন।
  • স্বদেশি ভাবধারার প্রচার: বয়কটের পাশাপাশি দেশীয় পণ্যের ব্যবহার বাড়াতে নারীরা এগিয়ে আসেন। তাঁরা চরকায় সুতো কাটা এবং খাদি বস্ত্র পরিধান শুরু করেন। এছাড়া, স্বদেশি মেলার আয়োজন ও দেশীয় শিল্পের প্রসারে লীলাবতী মিত্র, হেমাঙ্গিনী দাসের মতো নারীরা নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
  • রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ: তৎকালীন রক্ষণশীল সমাজের বাধা উপেক্ষা করে নারীরা মিছিল, মিটিং এবং পিকেটিং-এ অংশ নিতেন। জলপাইগুড়ির অম্বুজা সুন্দরী দাশগুপ্ত এবং ময়মনসিংহের পুণ্যলতা গুপ্তের মতো নারীরা সাধারণ মানুষকে আন্দোলনে যোগ দিতে উদ্বুদ্ধ করতেন।
  • প্রতীকী প্রতিবাদ (রাখিবন্ধন ও অরন্ধন): ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর (বঙ্গভঙ্গ কার্যকর হওয়ার দিন) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আহ্বানে সাড়া দিয়ে নারীরা দলে দলে ‘রাখিবন্ধন’ উৎসবে যোগ দিয়ে হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির বার্তা দেন। পাশাপাশি, রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদীর আহ্বানে তাঁরা বাড়িতে উনুন না জ্বালিয়ে ‘অরন্ধন’ ব্রত পালন করে নীরব প্রতিবাদ জানান।
  • সাহিত্য ও সংবাদপত্রের মাধ্যমে জনমত গঠন: মহীয়সী নারীরা তাঁদের লেখনীর মাধ্যমেও প্রতিবাদের ঝড় তুলেছিলেন। সরলা দেবী চৌধুরানী সম্পাদিত ‘ভারতী’ পত্রিকা, সরযূবালা দত্তের ‘ভারত মহিলা’ এবং ‘বামাবোধিনী’ পত্রিকা স্বদেশি আদর্শ প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। স্বর্ণকুমারী দেবী ও কামিনী রায়ের মতো সাহিত্যিকরা তাঁদের রচনার মাধ্যমে দেশাত্মবোধ জাগিয়ে তোলেন।

​নারী আন্দোলনের সীমাবদ্ধতা

​এত ব্যাপক অংশগ্রহণ সত্ত্বেও এই আন্দোলনে নারীসমাজের কিছু স্পষ্ট সীমাবদ্ধতা ছিল:

​১. উচ্চবিত্ত ও শহুরে কেন্দ্রিকতা: আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী নারীদের বেশিরভাগই ছিলেন শহরের উচ্চশিক্ষিত এবং সচ্ছল হিন্দু পরিবারের সদস্য। গ্রামের সাধারণ কৃষক পরিবারের বা নিম্নবিত্ত সমাজের নারীদের এতে তেমন কোনো অংশগ্রহণ ছিল না।

২. মুসলিম নারীদের অনুপস্থিতি: এই আন্দোলনে হিন্দু নারীদের অংশগ্রহণ ব্যাপক থাকলেও মুসলিম নারীদের উপস্থিতি ছিল নগণ্য। যদিও খয়রুন্নেসা খাতুন ‘নবনূর’ পত্রিকায় লেখনীর মাধ্যমে স্বদেশিয়ানা প্রচার করেছিলেন, কিন্তু তা ছিল ব্যতিক্রম।

৩. নেতৃত্বের অভাব: নারীরা আন্দোলনে যোগ দিলেও তাঁদের নিজস্ব কোনো স্বাধীন সংগঠন বা নেতৃত্ব ছিল না। আন্দোলনের রূপরেখা ও কর্মসূচি মূলত পুরুষ নেতাদের দ্বারাই নির্ধারিত ও নিয়ন্ত্রিত হতো।

2. সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনে কল্পনা দত্ত ও প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের অবদান উল্লেখ করো।

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে, বিশেষ করে চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহের অধ্যায়ে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার এবং কল্পনা দত্ত—এই দুই অগ্নিকন্যার নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে। মাস্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বে তাঁরা প্রমাণ করেছিলেন যে সশস্ত্র বিপ্লবে নারীরাও সমান পারদর্শী। 

১. বীরাঙ্গনা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার

বাংলা তথা ভারতের প্রথম মহিলা শহিদ প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার ছিলেন অসীম সাহসের প্রতীক। তাঁর বিপ্লবী জীবনের মূল অবদানগুলি হলো:

বিপ্লবী চেতনার উন্মেষ: চট্টগ্রামের খাস্তগীর স্কুলে পড়ার সময়েই তিনি বিপ্লবী মন্ত্রে দীক্ষিত হন। পরবর্তীকালে ঢাকায় থাকাকালীন তিনি নারী আন্দোলনের নেত্রী লীলা নাগের ‘দীপালি সংঘ’-এর সঙ্গে যুক্ত হন, যা তাঁকে দেশপ্রেমের পথে আরও এগিয়ে দেয়।

মাস্টারদার আস্থভাজন: প্রীতিলতার সাহস ও বুদ্ধিমত্তা দেখে মাস্টারদা সূর্য সেন তাঁকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেন। কলকাতায় থাকাকালীন তিনি দলের গোপন নথিপত্র আদান-প্রদান এবং সাংগঠনিক কাজে বিশেষ ভূমিকা পালন করতেন।

পাহাড়তলি ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণ: প্রীতিলতার জীবনের শ্রেষ্ঠ এবং শেষ অভিযান ছিল ১৯৩২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর পাহাড়তলি ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণ। এই ক্লাবের গেটে লেখা ছিল "কুকুর ও ভারতীয়দের প্রবেশ নিষেধ"। মাস্টারদার নির্দেশে ১৫ জন বিপ্লবীদের একটি দলের নেতৃত্ব দিয়ে তিনি ক্লাবটি আক্রমণ করেন। এই সফল অভিযানে একজন ইউরোপীয় নিহত এবং ১১ জন আহত হয়।

সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ: পুলিশ যখন ক্লাবটি ঘিরে ফেলে, তখন প্রীতিলতা আহত হন। ধরা পড়লে দলের গোপন তথ্য ফাঁস হয়ে যেতে পারে—এই আশঙ্কায় তিনি নিজের রিভলভারটি সহযোদ্ধার হাতে তুলে দেন এবং সায়ানাইড বিষ পান করে আত্মাহুতি দেন।

২. অগ্নিকন্যা কল্পনা দত্ত

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যাঁকে ‘অগ্নিকন্যা’ আখ্যা দিয়েছিলেন, সেই কল্পনা দত্ত ছিলেন মাস্টারদা সূর্য সেনের বিপ্লবী সংগঠনের আরেক স্তম্ভ। তাঁর ভূমিকা ছিল নিম্নরূপ:

বিপ্লবে যোগদান: রক্ষণশীল পরিবারের মেয়ে হয়েও এবং পরিবারে অনুকূল পরিবেশ না থাকা সত্ত্বেও তিনি বিপ্লবী সাহিত্যে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশসেবায় ব্রতী হন। বেথুন কলেজে পড়ার সময় পূর্ণেন্দু দস্তিদারের মাধ্যমে তিনি সূর্য সেনের সান্নিধ্যে আসেন।

অস্ত্র ও তথ্য সরবরাহ: দলের জন্য গোপনে বিস্ফোরক, আগ্নেয়াস্ত্র এবং গোপন কাগজপত্র নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়া বা লুকিয়ে রাখার মতো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কাজ তিনি দক্ষতার সাথে করতেন।

ডিনামাইট ষড়যন্ত্র: কল্পনা দত্তের বৈপ্লবিক জীবনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো ‘ডিনামাইট ষড়যন্ত্র’। চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের নায়ক গণেশ ঘোষ ও অনন্ত সিংহকে জেল থেকে পালানোর সুযোগ করে দেওয়ার জন্য তিনি আদালত ভবনে ডিনামাইট দিয়ে বিস্ফোরণ ঘটানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেই পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে যায় এবং তিনি ধরা পড়েন।

রাজনৈতিক জীবন: ১৯৩৯ সালে জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি ভারতের কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন এবং আজীবন শোষিত মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে যুক্ত ছিলেন।

উপসংহার

প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার এবং কল্পনা দত্ত কেবল ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে অংশই নেননি, তাঁরা তৎকালীন সমাজব্যবস্থায় নারীর প্রথাগত ভূমিকার বাইরে এসে সম্মুখ সমরে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তাঁদের এই বীরত্বগাঁথা আজও প্রতিটি ভারতবাসীর কাছে গর্বের বিষয়।

2. দলিত অধিকার বিষয়ে গান্ধী আম্বেদকর বিতর্ককে তুমি কিভাবে ব্যাখ্যা করবে ?

​ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দের দ্বিতীয় গোলটেবিল বৈঠক একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই বৈঠকেই ভারতের দলিত বা অস্পৃশ্য শ্রেণির অধিকার ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিয়ে কংগ্রেস নেতা মহাত্মা গান্ধি এবং দলিত নেতা ড. বি. আর. আম্বেদকরের মধ্যে এক গভীর মতাদর্শগত সংঘাত প্রকাশ্যে আসে।

১. বিতর্কের মূল ভিত্তি

উভয় নেতাই দলিতদের উন্নতি চেয়েছিলেন, কিন্তু তাঁদের পথ ছিল ভিন্ন। ড. আম্বেদকর মনে করতেন, বর্ণহিন্দুর দয়া বা করুণার ওপর নির্ভর করে দলিতদের সামাজিক মুক্তি সম্ভব নয়। তাই তিনি উচ্চবর্ণের শোষণ থেকে মুক্তির জন্য দলিতদের হাতে সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক ক্ষমতা ও আইনি অধিকার চাইছিলেন। অন্যদিকে, গান্ধিজি মনে করতেন অস্পৃশ্যতা একটি সামাজিক ব্যাধি, যা হিন্দু সমাজের ভেতর থেকেই সংস্কারের মাধ্যমে দূর করতে হবে, রাজনৈতিক বিভাজনের মাধ্যমে নয়।

২. আম্বেদকরের পৃথক নির্বাচনের দাবি

আম্বেদকর যুক্তি দেখান যে, ভারতের জনসংখ্যার বিচারে দলিতরা বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে এবং তারা সামাজিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল। সাধারণ নির্বাচনে দাঁড়ালে উচ্চবর্ণের প্রভাবের কারণে দলিত প্রার্থীরা জয়ী হতে পারবেন না। তাই দলিতদের সঠিক রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে তিনি ‘পৃথক নির্বাচনমন্ডলী’ (Separate Electorate) বা স্বতন্ত্র নির্বাচনের দাবি জানান।

৩. গান্ধিজির বিরোধিতা ও যুক্তি

গান্ধিজি আম্বেদকরের এই দাবির তীব্র বিরোধিতা করেন। তাঁর যুক্তি ছিল:

  • ​দলিতরা হিন্দু সমাজেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ, তারা আলাদা কোনো সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নয়।
  • ​যদি দলিতদের জন্য পৃথক নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হয়, তবে তারা চিরকালের জন্য মূল হিন্দু সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে এবং অস্পৃশ্যতা দূর করার সামাজিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে।

৪. সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারা ও গান্ধিজির অনশন

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী র‍্যামসে ম্যাকডোনাল্ড এই মতপার্থক্যের সুযোগ নিয়ে ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে ‘সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারা’ (Communal Award) নীতি ঘোষণা করেন। এতে ব্রিটিশদের ‘ভাগ করো ও শাসন করো’ নীতির প্রতিফলন ঘটে এবং দলিতদের জন্য পৃথক নির্বাচনের অধিকার স্বীকৃত হয়। আম্বেদকর একে স্বাগত জানালেও, গান্ধিজি একে হিন্দু সমাজে ফাটল ধরানোর ব্রিটিশ চক্রান্ত হিসেবে দেখেন। এর প্রতিবাদে তিনি যারবেদা জেলে আমরণ অনশন শুরু করেন।

৫. পুনা চুক্তি ও সমাধান

গান্ধিজির অনশনের ফলে তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। এই পরিস্থিতিতে সারা দেশে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। আম্বেদকর দলিতদের রাজনৈতিক অধিকারের দাবিতে অটল থাকলেও, শেষপর্যন্ত গান্ধিজির প্রাণরক্ষার কথা ভেবে তিনি নমনীয় হন। ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে উভয়ের সম্মতিতে ‘পুনা চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়।

ফলাফল: এই চুক্তির মাধ্যমে আম্বেদকর পৃথক নির্বাচনের দাবি ত্যাগ করেন। পরিবর্তে, সাধারণ নির্বাচন ব্যবস্থায় দলিতদের জন্য আসন সংরক্ষণের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়।

​উপসংহার

​মূলত, ব্রিটিশ সরকার চেয়েছিল জাতিভেদকে উস্কে দিয়ে ভারতের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে দুর্বল করতে। কিন্তু পুনা চুক্তি সেই সাম্প্রদায়িক বিভাজন রোধ করতে সক্ষম হয়েছিল। যদিও পদ্ধতির ভিন্নতা ছিল, তবুও গান্ধিজি ও আম্বেদকর উভয়েই চেয়েছিলেন সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে।

3.রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিক্ষা ভাবনার সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ করো।

ভূমিকা:

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিক্ষা দর্শন ছিল মূলত প্রকৃতিবাদী ও মানবতাবাদী। তিনি প্রচলিত যান্ত্রিক ও পুঁথিগত শিক্ষার পরিবর্তে প্রকৃতির উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে আনন্দময় শিক্ষার কথা বলেছিলেন। তবে এই মহান আদর্শের কিছু ব্যবহারিক সীমাবদ্ধতা ও সমালোচনাও বিদ্যমান।

১. শান্তিনিকেতন ও ব্রহ্মচর্যাশ্রম:

রবীন্দ্রনাথ ১৯০১ সালে শান্তিনিকেতনে 'ব্রহ্মচর্যাশ্রম' প্রতিষ্ঠা করেন। যেখানে প্রাচীন ভারতের তপোবনকেন্দ্রিক শিক্ষার আদলে পঠন-পাঠন চলত।

সমালোচনা: 

সমালোচকদের মতে, এই পদ্ধতিটি ছিল অনেকখানি পশ্চাৎমুখী। আধুনিক যুগের প্রতিযোগিতামূলক কর্মসংস্থান ও পেশাদারী শিক্ষার চাহিদা পূরণে এই আদর্শিক শিক্ষা ব্যবস্থা সবসময় সফল হতে পারেনি।

২. প্রকৃতির কোলে শিক্ষা:

রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস করতেন চার দেওয়ালের বন্দি দশা শিশুর মনের বিকাশ ঘটায় না, তাই তিনি খোলা আকাশের নিচে শিক্ষার কথা বলেন।

সমালোচনা: 

এই ব্যবস্থাটি শান্তিনিকেতনের মতো গ্রামীণ পরিবেশে সম্ভব হলেও, ঘিঞ্জি শহরাঞ্চলে এটি প্রয়োগ করা অসম্ভব ছিল। এছাড়া প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর অতি-নির্ভরতা আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত গবেষণাগারের গুরুত্বকে কিছুটা ম্লান করে দিয়েছিল।

৩. মূলধারার সাথে বিযুক্তি:

রবীন্দ্রনাথের শিক্ষা ভাবনায় সৃজনশীলতা (নাচ, গান, ছবি আঁকা) প্রাধান্য পেত।

সমালোচনা: 

তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে এই পদ্ধতির বিশেষ সামঞ্জস্য ছিল না। ফলে অনেক অভিভাবকই এই পরিবেশে শিক্ষিত সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয়ে থাকতেন।

উপসংহার:

পরিশেষে বলা যায়, বাস্তব প্রয়োগের ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও রবীন্দ্রনাথের শিক্ষা ভাবনা ছিল অত্যন্ত প্রগতিশীল। তিনি বিশ্বভারতীর মাধ্যমে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সংস্কৃতির মিলন ঘটাতে চেয়েছিলেন, যা আজও আধুনিক শিক্ষার অন্যতম প্রধান অনুপ্রেরণা।

Post a Comment

Previous Post Next Post